পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

মহরমের ফজিলত ও নিষেধ

 ধর্ম

মহরমের ফজিলত ও নিষেধ

বছরের কিছু দিন, মাস ও মুহূর্ত আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। এর মধ্যে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম এবং এ মাসের দশম দিন আশুরা। আশুরা শব্দটি বহুল পরিচিত। এটি একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ দশম। এটি হিজরি বছরের মহররম মাসের 10 তারিখকে নির্দেশ করে। ১৪৪৪ হিজরীতে, এই দিনটি শুরু হবে ৯ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে। এই মাসের বিশেষ ফজিলত এবং অনেক করণীয় ও করণীয় রয়েছে। তারা কি?

মহরমের তাৎপর্যপূর্ণ ফজিলত

মহররম ফযীলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাসগুলোর মধ্যে অনন্য। এটি 12টি আরবি মাসের মধ্যে 4টি হারাম মাসের একটি। এছাড়াও, এটি আরবি বছরের প্রথম মাস। আল্লাহর হিসাবে 12 মাস আছে। এই 12 মাসের মধ্যে 4টি সম্মানিত হারাম মাস রয়েছে। যে মাসগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল যুদ্ধ ও রক্তপাতকে হারাম ঘোষণা করেছেন। মহরম তার মধ্যে অন্যতম। এটি হিজরি বছরের প্রথম মাস। যা হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরামর্শে হিজরি বছরের প্রথম মাস হিসেবে স্বীকৃত।


কোরানে ঘোষিত চারটি নিষিদ্ধ মাসের কোনটি? হাদীসে এর সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে-

হজরত আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পরপর তিনটি মাস রয়েছে- জিলকদ, জিলহজ ও মহররম। আরেকটি হলো রজব মাস। জমাদিউস হল সানী ও শা'বান মাসের মধ্যবর্তী মাস অর্থাৎ রমজানের আগের মাস।' (বুখারী)


আল্লাহতায়ালা এ চার মাসকে কোরআনে মর্যাদাপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ যে মাসগুলোকে সম্মানিত মাস হিসেবে নামকরণ করেছেন সেসব মাসকে সম্মান করা একজন মুমিন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। এই দুটি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-


মহরমকে সম্মান করা


একজন মুমিনের প্রথম দায়িত্ব হলো আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত মাসগুলোর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা। মহররমসহ এ মাসগুলোতে আল্লাহ প্রদত্ত সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রত্যেক মুমিনের প্রথম কর্তব্য।

কিন্তু মুমিন মুসলমানদের অনেকেই জানেন না ইসলামের সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ মাসগুলো কোনটি। মানুষ যখন জানে যে এই মাসগুলো সম্মানিত। তাহলে মানুষের ধারণা হবে যে এটা আসলে মহররম মাস। এ মাসে সকল গুনাহ হারাম। তাই সম্মানিত মাসগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি। একইভাবে হারাম মাসের ইবাদত ও আমল সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।


পাপ থেকে বিরত থাকার মাস


একজন মুমিন মুসলমানের দ্বিতীয় কর্তব্য হলো আল্লাহ প্রদত্ত সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য মহররমসহ সম্মানিত ৪ মাসে দুনিয়ার সকল গুনাহ থেকে মুক্ত থাকা। তবেই সারাজীবন এই মাসটিকে অনুসরণ ও অনুকরণ করা সহজ হবে। আল্লাহ তায়ালা এই মাসগুলোতে করণীয় সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন:


"এই (মাসে) কোনভাবেই নিজেদের উপর জুলুম করো না।" (সূরা তওবা: আয়াত 36)


আয়াতের ব্যাখ্যা তাফসীর বিশারদগণ বলেন, এখানে স্বৈরাচার শব্দের অর্থ যে কোনো ধরনের অন্যায়। অতএব, এ মাসে গুনাহ না করাই হচ্ছে সর্বোত্তম অনুসরণ ও অনুকরণীয় কাজ যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।


তাই অন্য মাসে গুনাহ করা একজন মুমিন মুসলমানের জন্য জঘন্য কাজ। আর জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব এই চারটি সম্মানিত মাসে গুনাহ করা একটি দ্বিগুণ গুরুতর অন্যায় এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন।


পুরস্কারের প্রতিযোগিতার মাস


সওয়াব ও নেক আমলের প্রতিযোগিতা এ মাসের তৃতীয় কাজ। ইসলামি স্কলারদের মতে, মহররম মাস চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাই এই মহররম মাসে গুনাহ ত্যাগ করার পাশাপাশি যেসব কাজে সওয়াব ও উপকারিতা রয়েছে সেসব কাজে অংশগ্রহণ বাড়ানো খুবই জরুরি। আবার এই মহররম মাস মর্যাদার দিক দিয়ে রমজানের পরের স্থান। কেননা মুহাররম শব্দের অর্থ হলো- সম্মানিত।


মহরম সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের অন্যতম কারণ


মাসের নাম 'মুহাররম'। অর্থ: সম্মানিত। হাদিসেও এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হাদীসে উল্লেখ আছে-


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি (মুহাররম) শাহরুল্লাহ, আল্লাহর মাস।' (মুসলিম)


মহররম মাসে রোজা রাখা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। (মুসলিম)


ক্ষমার ঘোষণা

আশুরা ও মহররম মাসে বেশি বেশি তাওবা ও ক্ষমা করুন। কেননা এই দিন ও মাসের এই বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা তাওবা-ইসতেগফারে সমগ্র জাতিকে ক্ষমা করে দেবেন। হাদীসে উল্লেখ আছে-


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহররম আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতে অন্য সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন।' (তিরমিযী)

ত্যাগ-তিতিক্ষা শেখা


দ্বীন ও ইসলামের জন্য হযরত ইমাম হোসাইন রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জীবন থেকে আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক।

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

আশুরায় করণীয় ও বর্জনীয়

 



আশুরায় করণীয় ও বর্জনীয়।

আরবি হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। ইসলামী পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নবী সা:-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন রা:-এর শাহাদাত এই দিনটিকে বিশ্ববাসীর কাছে সর্বাধিক স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে।

মহররম অর্থ সম্মানিত। ইসলামী সন গণনায় মহররম মর্যাদাবান একটি মাস। মহররম শব্দের অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। এ মাসসহ আরো তিনটি মাস আছে যে মাসগুলোতে ঝগড়া-বিবাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ করা নিষিদ্ধ। বরকতময় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলোর মধ্যে পবিত্র আশুরা হচ্ছে অন্যতম একটি দিবস। আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে। আর আশুরা মানে দশম। অর্থাৎ মহররম মাসের ১০ তারিখ।

আশুরায় ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা : ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সৃষ্টিকুলের প্রাথমিক বিভাজন প্রক্রিয়ার সূচনা হয় আশুরায়। হজরত আদম আ:-এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ, খলিফা নিযুক্ত করা আর জান্নাতে দাখিল ও পৃথিবীতে নির্বাসনের পর মক্কা মুয়াজ্জমার আরাফাত ময়দানে হজরত হাওয়া আ:-এর সাথে পরিচিত হওয়া এবং দীর্ঘ দিন ক্ষমা প্রার্থনা শেষে দু’জনের তাওবা কবুল করেন। হজরত মূসা আ: সমুদ্রপথে যাত্রা, হজরত নূহ আ:-এর নৌযানের যাত্রা শুরু এবং বন্যা-প্লাবনের সমাপ্তি আশুরাতেই ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাসূল সা: আশুরায় কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। আশুরা এলে তিনি বিনয়ে বিনম্র্র থাকতেন ও রোজা পালন করতেন (তাফসিরে তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির)।




আশুরার দিনে আল্লাহ তায়ালা সাগর, পাহাড়, প্রাণিকুল, আসমান-জমিন ও লওহ-কলম সৃষ্টি করেছেন। আবার এ দিনেই আরশে আজিমে সমাসীন হয়েছেন। তামাম মাখলুকাত ধ্বংসও হবে মহররমের ১০ তারিখে। পৃথিবীর প্রথম হত্যাকাণ্ড হাবিল-কাবিলের ঘটনাও এ দিনে সংঘটিত হয়। হজরত ইবরাহিম আ: ক্ষমতাশালী মূর্তিপূজারি নমরুদের অগ্নিকাণ্ড থেকে উদ্ধার হন এ দিনে, হজরত আইয়ুব আ: কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি পান এ দিনে, হজরত ইউনুছ আ: মাছের পেট থেকে পরিত্রাণ এবং ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়া আ: শিশুপুত্র মুস আ:-কে এ দিনই ফেরত পান। আল্লাহ পাক এ দিনে হজরত ইদ্রিস আ:-কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর গুনাহ-অপরাধের জন্য কান্নাকাটি করলে আবার তাকে জান্নাতে ফেরত নেন। এ দিনই হজরত দাউদ আ:-এর গুনাহ মাফ হয়, হজরত মরিয়ম আ:-এর গর্ভ থেকে হজরত ঈসা আ:-এর পৃথিবীতে আগমন ঘটে। এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাসের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এ দিনে।

আশুরার বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা : আশুরা হলো বছরের অন্যতম সেরা একটি ফজিলতপূর্ণ দিন। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। মদিনার ইহুদিরা ও মক্কার কোরাইশরাও এ দিনটিতে রোজা রাখত। রাসূলুল্লাহ সা: মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখে তাদের কাছে এ দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা বলল- কারণ এ দিনে নবী মূসা আ: ও তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারী ও অবাধ্য ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করেছেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করেছেন। আর তারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি প্রতি বছর এ দিনে রোজা রাখতেন, তাই আমরাও তাঁর অনুকরণে এ দিনে রোজা রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন ‘আমরা (তোমাদের চেয়ে) মূসার অনুকরণের বেশি হকদার’ (বুখারি-মুসলিম)। এরপর থেকে তিনি আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের নির্দেশ দিতেন।

নবী সা:-এর ওফাতের প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর একই দিনে তাঁরই প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন রা: সপরিবারে ইরাকের কারবালায় ঘাতকদের হাতে অত্যন্ত নির্মমভাবে নিহত হন। মুসলিম মাত্রই এই ঘটনায় ব্যথিত ও মর্মাহত হতে বাধ্য। তবে সে কারণে রাসূলুল্লাহ সা: বর্ণিত আশুরার মূল তাৎপর্য কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। পরিতাপের বিষয় হলো- আশুরার দিনে ঘটে যাওয়া কারবালার নির্মম ঘটনাটির কথা আমরা জানলেও এই দিনের মূল ও হাদিস বর্ণিত (মূসা আ: ও বনি ইসরাইলের মুক্তির) ইতিহাস অনেকের কাছেই অজানা।

আশুরার দিনে কিছু করণীয় কাজ : আশুরার দিনে রোজা রাখা। তবে এর সাথে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখ মিলিয়ে রাখা। সম্ভব হলে ওই দিনে যারা রোজা রাখবে তাদের এক বা একাধিকজনকে ইফতার করানো। সাধ্যমতো দান-সদকাহ করা। গরিবদের পানাহার করানো। ইয়াতিমের মাথায় হাত বুলানো ও তাদের সহযোগিতায় পাশে এসে দাঁড়ানো। নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখ। তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করে তোমরা আশুরার আগে অথবা পরের একদিনসহ রোজা রাখবে’ (মুসনাদে আহমাদ-২৪১)।

এই দিন বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘মহররম হলো আল্লাহ তায়ালার (কাছে একটি মর্যাদাবান) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন’ (তিরমিজি-৭৪১)। দ্বীনের খাতিরে এই দিনে হজরত হুসাইন রা: যে ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শন করেছেন তা থেকে সব মুসলমানের দ্বীনের জন্য যেকোনো ধরনের ত্যাগ ও কোরবানি পেশ করার শিক্ষা গ্রহণ করা।

আশুরার দিনে কিছু বর্জনীয় কাজ : আশুরার সুমহান মর্যাদা ও তাৎপর্যকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে কিছু নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড ও কুসংস্কারের প্রচলন হয়ে গেছে। সেসব থেকে বেঁচে থাকা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। আশুরার দিন ক্রন্দন-বিলাপ করা, বুকে চাপড়ানো, পিঠে চাবুক দিয়ে আঘাত করা, নিজেকে রক্তাক্ত করা ও শোক মিছিল করা- কোনোটিই শরিয়তসম্মত কাজ নয়। কুরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই। আশুরার এই ঐতিহাসিক ঘটনার মূল চেতনা হচ্ছে- ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য চক্রান্ত ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই। বর্তমান বিশ্বে আশুরার এই শিক্ষা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ও ত্যাগের যে শিক্ষা কারবালার ঘটনা মানবজাতিকে দিয়েছে, তা আজকের দুনিয়ার অন্যায় ও অবিচার দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

তাজিয়া বানানো ‘হায় হুসেন’, ‘হায় আলী’ ইত্যাদি বলে বিলাপ ও মাতম করা এবং ছুরি মেরে নিজের বুক ও পিঠ থেকে রক্ত বের করা নাজায়েজ। এগুলো করনেওয়ালা, দর্শক ও শ্রোতা উভয়ের প্রতি নবী করিম সা: অভিসম্পাত করেছেন। কারবালার শহীদগণ পিপাসার্ত অবস্থায় শাহাদতবরণ করেছেন, তাই তাদের পিপাসা নিবারণের জন্য বা অন্য কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এই দিনে লোকদের পানি ও শরবত পান করানো। হজরত হুসাইন রা: ও তাঁর স্বজনদের উদ্দেশে ইছালে সাওয়াবের জন্য বিশেষ করে এই দিনে খিচুড়ি পাকিয়ে তা আত্মীয়স্বজন ও গরিব মিসকিনকে খাওয়ানো ও বিলানো, একে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ যেহেতু নানাবিধ কুপ্রথায় জড়িয়ে পড়েছে তাই তাও নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ।

আশুরার দিনে শোক পালন করা; চাই তা যেকোনো সুরতেই হোক। শরিয়ত অনুমোদিত শোক পালনের অর্থ হলো শুধু সাজসজ্জা বর্জন করা। শোক পালনের নাম যাচ্ছেতাই করার অনুমতি শরিয়তে নেই।

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

গান ও বাদ্যযন্ত্র : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

গান ও বাদ্যযন্ত্র: ইসলামীক দৃষ্টিকোণ

কুরআনের তাফসীর: সূরা লুকমানে আখেরাতের আশাকারী মুমিনদের প্রশংসা করার পর আল্লাহ বলেন, যারা দুনিয়ার আশা করে।

আর এক শ্রেণীর লোক আছে যারা অজ্ঞতাবশত বান্দাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিনোদনের জন্য জিনিসপত্র কিনে নেয়। - সূরা লুকমান: 6 আয়াতে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নাজর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি ক্রীতদাসী কিনে তাকে গান গাইতে নিযুক্ত করেছিলেন। কেউ যদি কোরান শুনতে চাইত, তিনি গায়ককে তার জন্য গান গাওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন, "মুহাম্মদ তোমাকে কোরআন তেলাওয়াত করতে বলেছেন নামাজ পড়তে, রোজা রাখতে এবং ধর্মের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে।" কষ্ট শুধুই কষ্ট। পরিবর্তে, গান শুনুন এবং জীবন উপভোগ করুন। - মাআরিফুল কুরআন ৭/৪

এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ তায়ালা আয়াতটি নাযিল করেন।

ছাহাবী ও তাবেয়্যিদের ব্যাখ্যা
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ‘লাহওয়াল হাদিস’ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা হলো সঙ্গীত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলে। তাবেয়ী সাঈদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ অভিমত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বলেছেন, আয়াতটি গান ও বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যা বান্দাকে কোরআন থেকে গাফেল করে তোলে। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১

কোরানের অন্য আয়াতে ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে আল্লাহ তায়ালা ইবলিসকে বলেন,

তাদের মধ্যে যাকে তুমি তোমার কণ্ঠে পদস্খলিত কর।-সূরা ইসরা: 64

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. তিনি বলেন, মন্দের দিকে আহ্বানকারী সবই ইবলীসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রহ. বলেছেন, ইবলিসের কণ্ঠকে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্র বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেছেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যে সমস্ত জিনিস পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে সঙ্গীতই সেরা। তাই একে ইবলীসের আওয়াজ বলা হয়।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯

ছাহাবী ও তাবেয়ীগণের তাফসীর অনুযায়ী গান ও বাদ্যযন্ত্র অনেক গুনাহের সমষ্টি। যথা:
ক) ভন্ডামির উৎস খ) ব্যভিচারের প্ররোচনা গ) মন ঢেকে ঘ) কুরআনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করা ঙ) আখেরাতের চিন্তা নির্মূল করা গ) পাপ আকৃষ্ট করা এবং ছ) জিহাদী চেতনা ধ্বংস করা।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ প্রকৃতপক্ষে , গান বাজানোর ক্ষতিকর প্রভাব এতটাই যে এর নাজায়েজতার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণ খোঁজার প্রয়োজন নেই। এতদসত্ত্বেও এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হাদীসের ভাষ্য
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গান গাওয়া এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম ঘোষণা করেছেন।

মহিলা গায়কদের ক্রয়-বিক্রয় করবেন না এবং তাদের গান শেখাবেন না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো লাভ নেই। জেনে রাখুন প্রাপ্ত মূল্য হারাম। - জামে তিরমিযী হাদীসঃ ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীসঃ ২১৬৮

বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার যেখানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে যে, এর সকল উপার্জন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুসারে সম্পূর্ণ হারাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার ওপরে বাদ্যযন্ত্র ও গায়ক বাজবে রমণীদের গান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের মাটিতে ধ্বংস করে দেবেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীসঃ 4020; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীসঃ ৬৭৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তিনি বলেন, পানি যেমন ভূমিতে সতেজতা সৃষ্টি করে তেমনি সঙ্গীত মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২

উপরোক্ত বক্তব্যের সত্যতা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। গান-বাজনার ব্যাপক প্রসারের ফলে মানুষের অন্তরে এত বেশি ভণ্ডামি তৈরি হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরামের ইসলাম এ যুগে স্থাবর বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং গান-বাজনা, নারী-পুরুষের মেলামেশা প্রভৃতি বিষয়কে স্থির মনে করা হচ্ছে। হালাল সহীহ আল-বুখারীতে আছে, আল্লাহর রাসূল সা

মুহাররম ও আশুরা; রোজার গুরুত্ব ও ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান।

أفضل صيام بعد رمضان شهر الله محرم ، وأفضل صلاة بعد الفريضة صلاة الليل

রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের সালাত (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সালাত)। - সহীহ মুসলিম, হাদীস 1163

এই হাদিস থেকে মহররম সম্পর্কে দুটি বিষয় পাওয়া যায়:

এক. মহররম আল্লাহর মাস। সম্মানিত ও মহিমান্বিত মাস।

দুই. এর ইজ্জত রক্ষা ও তা থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার অন্যতম উপায় হলো এ মাসে রোজা রাখা।

তাই আমরা মহররম মাসে রোজা রাখার দিকে মনোযোগ দিতে পারি। বিশেষ করে দশ মহররম আশুরার রোজাকে হাদীসে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেব।

যেভাবে রাখবো আশুরার রোযা।

আশুরার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলত পুর্ণ একটি আমল। এই দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব। তবে মহরমের দশ তারিখের আগে বা পরে নবম বা একাদশ দিনে অতিরিক্ত একটি রোজা রাখা উত্তম। নয় তারিখে রাখলে ভালো হয়। কেননা হাদীসে নয়টি তারিখ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা রাখছিলেন এবং অন্যদেরকে রোজা রাখতে বললেন, তখন সাহাবীগণ বললেন:

يارسول الله إنه يوم تعظمه اليهود والنصارا؟

হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি-নাজারেন (খ্রিস্টানরা) কি এই দিনটিকে সম্মান করে? তখন নবীজি বললেন-

فإذا كان العام المقبل إن شاء الله صمنا اليوم التاسع» قال: فلم يأت العام المقبل، حتى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم

এরপর আগামী বছর আমরাও নয় তারিখে রোজা রাখব-ইনশাআল্লাহ। কিন্তু পরের বছর তার আগেই নবী ইন্তেকাল করেন। - সহীহ মুসলিম, হাদীস 1134

"আমি নয় দিন রোজা রাখব" মানে ১০তারিখের  সাথে ৯তারিখ মিলিয়ে  রাখব। এজন্যই ইবনে আব্বাস রা. বলতেন।

صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ

নবম ও দশম দিন রোজা রাখো এবং ইহুদীদের বিরোধিতা কর। - জামে তিরমিযী, হাদীস 755

(এক মুহূর্ত ভেবে দেখুন, ইসলামী শরীয়তে বৈধ ও কাম্য ইবাদতের ক্ষেত্রে যদি এমন বিরোধিতা আসে, তাহলে ইহুদী-নাজারিনদের নিজেদের সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করার নিয়ম কতটা কঠোর হতে পারে? এবং বিদেশী সংস্কৃতি!)

আর উত্তম হলো দশম তারিখের আগে ও পরে আরো দুটি রোজা রাখা। 9, 10 ও 11 মোট তিনটি রোজা। কারণ, পুরো মহররম মাস রোজা রাখার কথা সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার রহ. 4/246)

এ মাসে আমরা তাওবার প্রতি গুরুত্ব দেই।

যে কোনো সময় অনুতাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। একজন বান্দা আল্লাহর সামনে মাথা নত করবে এবং তার অতীতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে - এটি তার বান্দার সম্মান। কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্ত আছে যখন অনুতাপের পরিবেশ বেশি অনুকূল হয়। বান্দার উচিত আল্লাহ প্রদত্ত প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে জীবনকে আরো সুন্দর করে তোলা। এই মহররম মাস, বিশেষ করে এর দশম দিন - 'ইয়াওমেহ আশুরা' এমন একটি শুভ সময়।

মহররমের অন্যতম ফজিলত হল এটি তওবা কবুলের ইতিহাসের সাথে জড়িত এবং আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভের ইতিহাস। তাই এ সময় এমন সব কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত, যাতে বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমত বেশি প্রবাহিত হয়। বিশেষ করে এই সময়ে আমি অনুতাপ ও ​​ক্ষমার প্রতি পুরোপুরি মনোযোগী হতে চাই।

একজন সাহাবী নবীজীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ

يا رسول الله أي شهر تأمرني بالصيام بعد رمضان؟

হে আল্লাহর রাসূল! রমজানের পর কোন মাসে রোজা রাখবেন? নবীজি বললেনঃ

إذا كنت تصوم بعد شهر رمضان ، فحينئذٍ صوم محرم ، فهو شهر الله فيه يوم تاب إليّ فيه.

قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب.

রমজানের পর রোজা রাখতে চাইলে মহরমের রোজা রাখুন। কারণ মহররম আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ অনেকের তাওবা কবুল করেছেন (অতীতে)। আপনি ভবিষ্যতে অনেক মানুষের তওবা কবুল করবেন। - জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪১

মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ দিনটি আশুরার দিন হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্রষ্টব্য: লতাইফুল মারেফ, পৃ. 76

বান্দার নিজের ভাষায় প্রভুর কাছে তার অনুরোধ পেশ করাই স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে তিনি বান্দাকে সেই আকাঙ্ক্ষা উপস্থাপনের জন্য অর্থপূর্ণ শব্দ ও বাক্যও শিখিয়েছেন। কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত মাসনূন দুআগুলোর অর্থ ও ব্যঞ্জনা প্রতিটি মুমিনের হৃদয় স্পর্শ করে, যদি সে বুঝে শুনে পাঠ করে। কোরানে আম্বিয়ায়ে কেরামের দুআকে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মুমিনের জন্য একটি বড় সম্পদ। হাদিসেও প্রচুর দুআ-ইস্তিগফার উল্লেখ আছে। এতে আমরা 'সায়েদুল ইস্তিগফার'কে আমাদের ওজিফা করতে পারি। সৈয়দুল ইস্তিগফার হল-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু। তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আপনার প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমি আমার কর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আমি তোমার কাছে আমার পাপ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। - সহীহ বুখারী, হাদীস 6306

এ ছাড়া কুরআন-হাদিসে আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ দুআ-ইস্তিগফার বর্ণিত হয়েছে। আমরাও তাদের ওজিফা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। আমি তাদের বোঝার সাথে পড়তে চাই, অন্তত মাঝে মাঝে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বুজে আমল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

আর নয় হাতাশা ব্যর্থতার পরই আসবে সফলতা

হতাশা মানুষকে সঠিকভাবে বাঁচতে দেয় না।

প্রতিটি মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকে। থাকে স্বপ্নপূরণের চেষ্টা। 

কিন্তু দুনিয়াতে কারও সকল স্বপ্নপূরণ হয় না। আর স্বপ্নপূরণ না হলে অথবা কাজের ইচ্ছামতো ফল না পেলে মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয়, এটাই হতাশা।

জয়-পরাজয়, পাওয়া-না পাওয়া, সাফলতা-ব্যর্থতা মানুষের জীবনে আসতেই পারে।

ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ব্যর্থতার পরই আসবে সফলতা। যেমনিভাবে রাত পোহালেই আসে দিন। আর ব্যর্থতায় মর্মাহত লোকদের সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।

(সূরা আলে ইমরান : ১৩৯)


অনেকে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়ে। মনোবল হারিয়ে ফেলে। সামনে চলতে পারেনা। তাদের উচিত ভেঙে না যাওয়া, ধৈর্য ধারণ করা মনোবল না হারিয়ে সামনে হাঁটতে থাকা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা : ১৫৩)। আর আল্লাহতায়ালা যাদের সঙ্গে আছেন, তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট ঘায়েল করতে পারে না।


রাসূল (সা.) হতাশাগ্রস্ত মানুষকে মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কয়েকটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। যা তাদের মনকে সজীব ও সতেজ করবে।


প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ওইগুলো পড়ে আমল করবে, সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমলগুলো তেত্রিশবার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়া, তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়া। (সহিহ মুসলিম)


আমাদের উচিত সাময়িক ব্যর্থতা, বাধা-বিপত্তি ও না পাওয়ার বেদনায় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ওপর ভরসা করে অন্তত দু রাকাআত নামাজ পড়ে হলোও আল্লাহ তায়ালার কাছে খুব দোয়া কান্নাকাটি করা। 

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সকল প্রকার হতাশা হতে হেফাজত করেন আমিন।

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও উদার মুসলিম সমাজ। পার্ট২

ফিকহের কিতাবে নামাজ ত্যাগকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড রয়েছে।  তবে ধর্মত্যাগী হিসেবে নয়।  বরং অপরাধের শাস্তি হিসেবে।  এই ধরনের ব্যক্তিকে দফন করা হবে (তবে সমাজের অনুসরণীয়  দ্বীনদার ব্যক্তিবর্গ  সেই জানাযায় অংশ নেবে না) এবং তাকে একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে।  অন্যদিকে, হানাফী ফিকহ অনুসারে, এমন ব্যক্তিকে কারাগারে রাখা হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে এবং নামাজে অভ্যস্ত না হয়।  উপযুক্ত মারধর হবে।

উপরোল্লিখিত পার্থক্যটি তাদের হুকুমের ব্যাপারে যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে ওয়াজিব মনে করেন।  কিন্তু অলসতা মিটে না।  পক্ষান্তরে, যারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করাকে ফরজ বা কর্তব্য মনে করে না, বরং একে ঐচ্ছিক নেক আমল (মুস্তাহাব) মনে করে এবং শুধুমাত্র জুমার নামাযকে অপরিহার্য মনে করে, তাদের ফিকহের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।  তাদের কাফের সম্পর্কে কোন ইমাম-মাযহাব।

তাহলে তারা কারা?  যারা বলে ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে কাউকে বা (কোন মুসলমানকে) জোর করা যাবে না।  শুধু দয়া ভালবাসা দিয়ে বোঝা উচিত।  তারা কোন ইসলামের কথা বলে?  হ্যাঁ, আপনি যদি শরীয়তের প্রকৃত বিধান গ্রহণ করেন এবং তারপর ব্যক্তি হিসাবে কাজ করেন তবে ঠিক আছে।  (যেহেতু সমাজ ও রাষ্ট্রে কোনো ইসলামী প্রশাসন নেই) কিন্তু শরীয়তের ফরজ আদেশ সম্পর্কে এভাবে বোঝার পদ্ধতি বিবেচনা করলে নবীর সুন্নাহ বিবেচনা করলে বড় সমস্যা!

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কোন মুসলমান নামায ছেড়ে দিবে তা কল্পনাতীত, এমনকি যারা নামাযের আযান শুনে মসজিদের জামাতে শরীক হয় নি, কিন্তু নবী করীম (সাঃ) কি করলেন?  আল্লাহর রহমতের বরকতে এমন লোকের কথা কি মনে হয়?  তাদের সম্পর্কে নবীর মেজাজ কতটা ভয়ানক ছিল- আমরা কি ভেবে দেখেছি?  হাদিসে আছে- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।  কারো বাড়িতে আগুন লাগানোর বিষয়ে আপনি কী ভাবছেন?  এটা কি ছোটখাটো অপরাধের শাস্তি হতে পারে?  হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন যাদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা নামাযের আযান শুনে মসজিদে জামাতে যোগ দেয়নি, কিন্তু আমার জন্য!

খেয়াল করে দেখুন আজকাল ব্যাপকভাবে কী শহরে, কী গ্রামে; সমাজের মুসলমানরা ফরজ নামাজ (মানে অবশ্যপালনীয় না পড়লে মারাত্মক পাপ হবে এরকম) বলতে শুধু জুমার নামাজ কি বুঝে। দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া যে ফরয, না পড়লে জঘন্য পাপ হচ্ছে, এই অনুভূতি কেমন যেন দিনদিন সমাজের নামধারী সাধারণ মুসলমানদের মন-মানসিকতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে! পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায (ফরযসহ) পড়াটাকে তারা সবাই কেমন যেন মুস্তাহাবের মত মনে করে আছে! তারা কেন? বরং আমরা যারা নিজেদের দ্বীনদার, নামাজি মনে করি আমরা ও কি তাদের ব্যাপারে এর ব্যতিক্রম কিছু ভাবছি? অন্যথায় যাদেরকে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে বিশেষত ফজরে কখনোই দেখি না তাদেরকে কি আমরা মারাত্মক অপরাধী বা জঘন্য পাপ হিসেবে দেখি? 

এই যে আমাদের দ্বীনি মূল্যবোধে, দ্বীনের মৌলিক একটি ফরজ বিধানের ব্যাপারে আমাদের চিন্তা-চেতনায়, মন-মানসিকতায় এরকম অমার্জনীয় রকমের শিথিলতা অবচেতনভাবে চলে এল এর পিছনে দায় কার বা কাদের? 

উত্তরঃ দুই শ্রেণী;  সবার আগে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা।  এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যা কখনই একজন শিক্ষার্থীকে শেখায় না যে প্রার্থনা না করা একটি গুরুতর পাপ, একটি জঘন্য অপরাধ।  দ্বিতীয়ত, সমাজের কাপুরুষ সুফি দরবারী আলেমরা,

তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে শরীয়তের সকল বিধি-বিধান জানা ও বোঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।


মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও উদার মুসলিম সমাজ পার্ট১

রাহমাতুল্লিল আলামিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনা হলো  একজন নাবালেগ 10 বছরের ছেলে/মেয়ে যার উপর এখনো পর্যন্ত নামাজ পড়া ফরজও হয়নি তাকেও নামাজের জন্য শাসন করো। হ্যাঁ, এ হল কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ছেলে/মেয়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান। তাহলে প্রাপ্ত বয়স্কদের ব্যাপারে এ বিধান কি কেমন হবে?

ফিকহের কিতাবে আছে- অলসতা অবহেলা বসত কোন মুসলমান যদি নামাজ না পড়ে তাহলে হাম্বলী ও মালিকি ফিকাহ অনুযায়ী তাকে শরিয়া আদালতে হুজ্জত কায়েমের পর মুরতাদ হিসেবে কতল করা হবে এবং তার জানাজা পড়া হবেনা।  এমনকি মুসলমানদের কবরস্থানেও তাকে দাফন করা হবে না।কারণ নবীজী সাঃ এর যুগ সহ ইসলামের সোনালী যুগে তথা সাহাবা তাবেঈদের যুগে কেউ নামাজ ছেড়ে দিলে তাকে মুসলমান মনে করা হতো না এভাবে কেউ যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানালেও মুসলমান মনে করা হতো না।ফলে তাদের সাথে কাফেরদের মতোই আচরণ করা হতো। এছাড়া বহু প্রমাণিত হাদিসের ভাষ্য যেহেতু এমনই যে,  ইসলাম ও কুফরের মাঝে পার্থক্যকারী আমল হলো, নামাজ। 

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আমি লোকেদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলা করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো ; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা।আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত।

বিঃদ্রঃ আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মতো আদায় করার তৌফিক দান করেন আমিন।

(মুসলিম ১/৮ হাঃ২২)

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

হতাশা خيبة الامل

خيبة الامل

"لكل شدة مُدة، وكل ضيقٍ له مُتسع، يتعاقبُ فيها نهارٌ مُضيء، وليل مُظلم، تارةً يُخالجك الألم، وتارة يُصالحك الأمل، واللَّه دومًا في هذه وتلك معك بلطفه وحفظه، فالحمد له في السراء وإن قصُرت،و

الحمد له في الضراء وإن طالت❤️

হতাশা

"প্রতিটি তীব্রতার একটি সময়কাল আছে, এবং প্রতিটি সংকীর্ণতার একটি স্থান আছে, যেখানে একটি উজ্জ্বল দিন এবং একটি অন্ধকার রাত রয়েছে, কখনও কখনও আপনি ব্যথা অনুভব করেন, এবং কখনও কখনও আশা আপনাকে মিলিত করে, এবং আল্লাহ সর্বদা আপনার সাথে আছেন এবং তার সাথে দয়া এবং মমতা রয়েছে, সুতরাং বেসি বেসি তাঁর প্রশংসা করুন এবং যদি আপনি সংক্ষিপ্ত হন, এবং প্রতিকূল সময়ে এবং যদি দীর্ঘ হয় তবে তাঁরই প্রশংসা করুন।