থার্টি ফাস্ট নাইট অতপর কিছু কথা
হে মুসলিম ভাই! তুমি কি জানো থার্টি ফাস্ট নাইট এর ইতিহাস🤔
"থার্টি ফাস্ট নাইট" অর্থাৎ ইংরেজি বছরের
পালাবদল। ডিসেম্বর মাস শেষ হয়ে পহেলা
জানুয়ারির শুরু। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটিকে বিশেষ ভাবে
পালন করে থাকে।
দেবতা জানুস (Janus) এর নাম শুনেছেন? যদি না
শুনে থাকেন, তাহলে ইতিহাস সম্পর্কে জানুন!!!
দুই মাথাওয়ালা জানুস ছিল রোমানদের নিকট
ভাগ্য দেবতা। রোমানরা মনে করতো জানুস
দেবতাই তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করে। এই কারনে
রোমানরা জানুসকে পূজা করতো। জানুয়ারি
মাসের নামকরনও করা হয়, জানুস দেবতার
নামানুসারে।যেহেতু রোমানরা জানুসকে ভাগ্য
দেবতা মানতো তাই ওরা ৩১শে ডিসেম্বর রাতে
12 টা বাজার পূর্বে জানুসের পিছনের মাথার
সামনে গিয়ে বলতো আমরা গত বছর ভালো
ছিলাম তোমার কল্যাণে "নাউজুবিল্লাহ"
যখনই রাত ১২টা বাজতো, রোমানরা জানুসের
সামনের মাথার দিকে চলে যেত। কারণ তাদের
বিশ্বাস ছিল আগামী বছর যদি ভালো কিছু
পেতে হয়, তাহলে জানুসের সামনের মাথাকে
খুশি রাখতে হবে। এই জন্যই রোমানরা আবার
প্রার্থনা করতো। ৩১শে ডিসেম্বর সেই উৎসব-
উদযাপন, পূজা- প্রার্থনা সবই ছিল জানুস দেবতা
কেন্দ্রিক। সময়ের বিবর্তনে আজ তা হয়ে উঠেছে
বিশ্বব্যাপী ‘’থার্টি ফাস্ট নাইট।
ইংরেজ তথা খ্রিষ্টান জাতি মুসলমানদের চরম শত্রু।
আমরা তাদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাতে পারি না।
একজন মুসলমান হিসেবে তাদের সভ্যতা- সাংস্কৃতি
আমরা কিছুতেই গ্রহণ করতে পারি না।
# আল্লাহ তাআলা কুরআন পাকে এরশাদ করেন#
{ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَالنَّصٰرٰۤی
اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ
فَاِنَّہٗ مِنۡہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ }
""হে মুমিনগণ তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের কে
বন্ধু রুপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে
সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা
জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না""
( সূরা মায়েদা আয়াত ৫১)
# হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন #
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَومٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
আর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন
""যে ব্যক্তি কোন বিজাতির কৃষ্টি কালচারের সাদৃশ্য
অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে""
( আবু দাউদ)
সৃষ্টির শুরু থেকেই শয়তান মানব জাতিকে
বিপথগামী করেই চলছে। শয়তানের প্ররোচনায়
পড়ে আমরা অনেক ধরণের অন্যায়-অপরাধ করে
ফেলি। শয়তানের প্রধান ইচ্ছাই সে প্রত্যেক মানব
সন্তানকে আল্লাহ্র সাথে শিরক করিয়ে কবরে পাঠাবে।
যাতে মানুষ অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে 🔥
জ্বলতে থাকে। শয়তান ইহুদীদের যেভাবে শিরক
করিয়েছিল সেইভাবে আমাদের শিরক করাতে পারবে না। খ্রিস্টানদের যেভাবে ধোঁকা দিয়ে শিরক করিয়েছিল ওই ভাবেও আমাদের শিরক করাতে পারবে না। তাই শয়তান আমাদের আল্লাহ্র সাথে শিরক করানোর জন্য
অনেক ভিন্ন ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। তার মধ্যে
একটি পন্থা হলো এই জানুস দেবতা।
আমাদের আফসোস করা উচিৎ যে,আমরা মুসলমান। আমাদের চিন্তা-চেতনা হওয়া উচিৎ ইসলাম ধর্ম
অনুযায়ী। একটা বছরের বিদায় মানে নিজ জীবন
থেকে একটি বছরের বিদায়। কী করলাম, কী হারালাম,
কী পেলাম তা নিয়ে ভাবা উচিৎ।
একটি জিনিস ভেবে দেখেন তো, শয়তান যদি
আমাদের বলতো, তোমরা জানুস দেবতার পূজা
করো। ‘’আমরা কি করতাম??... অবশ্যই না!!!
কিন্তু শয়তান জানুস দেবতার পূজাকে আমাদের
সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যে আমরা
আজ জানুসের পূজা করছি এবং আমরা বুঝতেও
পারছি না। এবং আমরা আল্লাহ্র সাথে শিরক করে অনন্তকালের জন্য জাহান্নামের আগুন 🔥 কিনে নিচ্ছি।
আল্লাহ্ তুমি আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করো,
এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করো, 🤲🤲
আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।
